Friday , December 4 2020
Home - রাজশাহী বিভাগ - রাজশাহী - রাজশাহীতে সেই অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ করে ফের উত্তাল কাপাসিয়াবাসী

রাজশাহীতে সেই অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ করে ফের উত্তাল কাপাসিয়াবাসী

রাজশাহী সংবাদদাতা : রাজশাহী মহানগরীর কাপাসিয়ার টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থী (১৩) কে যৌন হয়রানীর অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে কাপাসিয়াবাসীসহ তৎসংলগ্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকাল ১১ টার দিকে অধ্যক্ষ রিপনের অপসারণ ও শাস্তি দাবি নিয়ে ব্যানার হাতে ঢাকা- রাজশাহী মহাসড়ক ২ ঘন্টা অবরোধ করে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন কওে তারা। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও ফাঁিসর দাবীতে প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এবং অধ্যক্ষের কুসপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষুব্ধ জনগন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আসাদুজ্জামান রাজু বলেন, অধ্যক্ষ রিপনের খারাপ দৃষ্টি ভঙ্গি আর অসৎ মানুষিকতার কারনেই এ প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসেরমুখে। তিনি যে অপকর্ম করেছেন তার জন্য আজ শুধু এ কলেজই নয় পুরো কাপাসিয়া এলাকার দূর্নাম ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছে এ অপবাদ। এ অঞ্চলে এই প্রথম কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার নাম কলঙ্কিত করার অপরাধে তিনি রিপনের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে উক্ত কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৫ ফেব্রয়ারি অধ্যক্ষ জোহুরুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষার্থী (১৩)কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে নগরীর মতিহার থানাধীন কাপাশিয়া এলাকায় অবস্থিত মহানগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম ইন্সটিটিউটের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা কাপাশিয়া মোড়ে ব্যনার-ফেস্টুন হাতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে অধ্যক্ষ রিপনের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে। এ সময় রাস্তার দুই পাশের যানজট অচলাবস্থার সৃষ্টি করে।

পরে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্বাস আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের শান্ত করেন। এ সময় অপ্রিতিকর ঘটনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মতিহার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোঃ শামসুল আজম, মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি হাসান ও ওসি (তদন্ত) মোঃ মাহবুব আলমসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনস্থলে মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

পরে গত ০৮ মার্চ বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে নগরীর পবা উপজেলা চত্বর থেকে কাটাখালী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।