Saturday , November 28 2020
Home - আবহাওয়া - এ মাসে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস

এ মাসে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস

উত্তরাঞ্চল ডেস্ক : চলতি এপ্রিল মাসের বাকী দিন গুলোর মধ্যে‍  নানান ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে, এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আসতে পারে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি। একই সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অধিদফতরের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এ দীর্ঘমেয়াদি এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাহনাজ খান বলেন, ‘এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল মাসে দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২ থেকে ৩ দিন মাঝারি বা তীব্র বজ্রঝড় (কালবৈশাখী) ও দেশের অন্যত্র ৪ থেকে ৫ দিন হালকা বা মাঝারি বজ্রঝড় হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।’ চলতি মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপর দিয়ে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রির সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি) বয়ে যেতে পারে জানিয়ে মাহনাজ খান বলেন, ‘দেশের অন্যান্য স্থানে এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি) বা মাঝারি (৩৮ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে মনে করছি আমরা।’

দেশের নদ-নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও এই মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলেও জানান আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক।বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সদ্য শেষ শেষ হওয়া মার্চ মাসেও ছিল আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা। এই মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, কোন স্থানের আবহাওয়া ৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়ের বিচ্যুতিই হচ্ছে অস্বাভাবিকতা। আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস প্রতিবেদন কৃষিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, ত্রাণ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, কৃষি সচিব, পানিসম্পদ সচিব, খাদ্য সচিব ও বাণিজ্য সচিবকে প্রতিবেদনের অনুলিপি দেয়া হয়েছে।