Friday , December 4 2020
Home - বরিশাল - বরগুনা - বাঁশের সাঁকোই ভরসা ৭ গ্রামের মানুষের
uttarancholnews24

বাঁশের সাঁকোই ভরসা ৭ গ্রামের মানুষের

ডেস্ক রিপোর্ট : বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাত গ্রামের মানুষকে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের রামজি (মৃধার) খালের উপড়ে স্থানীয়দের তৈরী বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করেন হলদিয়া, চিলা, গুরুদল ও নাচনাপাড়া নামের চারটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। তুজির বাজার সংলগ্ন এ সাঁকোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪০ ফুট। এক সময় এখানে খেয়া নৌকা ছিল। তবে গত আট বছর আগে এ এলাকার মানুষের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এ সাঁকোর রক্ষণাবেক্ষণ এলাকাবাসীই করে। এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে বৃদ্ধ, মহিলা ও মুমূর্ষু রোগীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পার হন। বর্ষা মৌসুমে বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গুরুদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

নাচনাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ আরশেদ আলী (৭২) জানান, “মোর যৌবন বয়স হইতে মুই এই খালে বাঁশের হাক্কা পাড়াইয়া চিলা গ্রামে মোর নানাগো বাড়িতে গেছি। এ্যাহন তো মুই বৃদ্ধ, এ্যাহোনো এ্যাহানে একটা পাঁকা হাক্কা দেতে কেউ পারলেনা।”

গুরুদল গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম (৬৫) বলেন, “আগে এ্যাহানে খেয়া নৌকা আছিল। মোরা হেইতে পার হইতাম। এ্যাহন অনেক কষ্ট করে বাঁশের হাক্কা পারাই।”

বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসরিন ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোনিয়া জানান, অনেক কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আমাদের বিদ্যালয়ে আসতে ও যেতে হয়।

হলদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. স্বপন মিয়া বলেন, এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে রামজি (মৃধার) খালে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে উপজেলা হলদিয়া টেপুরা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে টেপুরা খাল। এ খালের ওপর প্যাদা বাড়ীর সামনে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করেন টেপুরা, মধ্য টেপুরা ও মাছুয়াখালী গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ। কলাপাড়া উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামে কাছাকাছি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এ গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী আমতলী উপজেলার মধ্য টেপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে আসতে যেতে কোমলমতি ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ১৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। সম্প্রতি বর্ষায় মাছুয়াখালী গ্রামের আরিফবিল্লাহ এক শিক্ষার্থী সাঁকো পার হওয়ার সময় পা পিছলে খালে পড়ে যায়।

মধ্য টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলম মল্লিক জানান, এ খালে সেতু না থাকায় অনেক বড় একটি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আমার বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থী সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে যায়। এখন ভয়ে সে বিদ্যালয়ে আসতেছেনা। জরুরি ভিত্তিতে টেপুড়া খালে একটি পাঁকা সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।