Sunday , September 25 2022
Home - আন্তর্জাতিক - দক্ষিণ আফ্রিকায় বৃহত্তম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকায় বৃহত্তম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকায় বৃহত্তম মিডর্যান্ড মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা আলী কাতিরগ্লু (Ali Katircioglu) আর নেই। ১৫ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দুই মাস আগে তার স্ত্রী মারা যান।

আলী কাতিরগ্লু তুরস্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অসংখ্য মসজিদ, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি সবার কাছে ‘আংকেল আলী’ নামে পরিচিত। তুরস্কে একটি মসজিদ স্থাপনের পর একই ডিজাইনের দক্ষিণ আফ্রিকার মিডর্যান্ডে নান্দনিক কারুকার্যে নিজামিয়া মসজিদ ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন। তিনি নিজেই জমি দান করে দৃষ্টিনন্দন মসজিদের সব ব্যয় বহন করেছিলেন।

২০০৬ সালে আংকেল আলী কাতিরগ্লু এই মিডর্যান্ড মসজিদ নির্মাণের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে দেখা করে তার পরিকল্পনার কথা জানান। তখন ম্যান্ডেলা বলেন মসজিদের সাথে যেন ক্লিনিক তৈরি করা হয়। ম্যান্ডেলার কথা মতো তিনি মসজিদের পাশে ক্লিনিক নির্মাণ করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমা মসজিদটি পরিদর্শন করেছিলেন। ক্লিনিকটিতে প্রতিদিন ৪০০ জনকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে।

এই মসজিদ নির্মাণে তুর্কি শিল্পী ও কারিগরদের দক্ষিণ আফ্রিকায় আনা হয়েছিল। দরজা, টাইলস এবং জানালার মতো অন্যান্য সামগ্রী তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে নিজামিয়ে মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু করেন এবং ২০১২ সালে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করেন।

এখানে রয়েছে স্কুল, প্রদর্শনী হল, কবরস্থান, ক্লিনিক এবং শপিং সেন্টার। বেকারি, নাপিত, বইয়ের দোকান, একটি কার্পেট, সিরামিকের দোকান এবং একটি তুর্কি রেস্টুরেন্টও রয়েছে।

শুক্রবার আলী কাতিরগ্লুয়ের জানাযা মিডর্যান্ডের নিজামিয়া মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দাফন সম্পন্ন করা হয়। বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মুসলমান তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে প্রতিদিন শত শত মানুষকে তিনি খাওয়াতেন এবং প্রতিদিন থাম্বিসাতে শত শত খাবারের পার্সেল বিতরণ করতেন। সুয়েটো-থাম্বিসার বিভিন্ন জায়গায় পোশাক, খাদ্য বিতরণ করতেন।

এছাড়াও তিনি ডারবানের অ্যাডামস কলেজের সম্প্রসারণে অর্থায়ন করেন, টেম্বিসাতে একটি কমিউনিটি সেন্টার এবং ডেভিটনে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *