Monday , August 8 2022
Home - খেলাধুলা - গেইম খেলার সঙ্গে সুখী থাকার সম্পর্ক কী?

গেইম খেলার সঙ্গে সুখী থাকার সম্পর্ক কী?

নিউজ ডেস্ক :

৩৯ হাজার গেইমারের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে সুখী থাকার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে গেইম খেলার কোনো সম্পর্কই নেই। দীর্ঘ সময় ধরে যারা গেইম খেলেন, তারা জীবন নিয়ে অন্যান্যের চেয়ে খুশি- এমন ইঙ্গিত মিলেছিল ‘অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট’-এর আগের গবেষণায়।

কিন্তু, ২০২০ সালে করা ওই গবেষণাটির পরিধি ছিল ছোট, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও ছিল কম। কিন্তু বিপরীতমুখী তথ্য দিচ্ছে একই সংস্থার সাম্প্রতিক গবেষণা। বিবিসি জানিয়েছে, ‘অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট’-এর গবেষকরা এখন বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে গেইম খেলার সঙ্গে নিজের জীবন নিয়ে সুখী থাকার মধ্যে কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নেই বললেই চলে।

এক্ষেত্রে গবেষকরা ‘ভালো থাকা’র বিষয়টি পরিমাপ করেছেন জীবন নিয়ে আত্মতুষ্টি, সুখ, দুঃখ, রাগ ও হতাশার মতো অনুভূতিগুলোর মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে। গবেষকরা বলছেন, নিজের জীবন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বা আত্মতুষ্টিতে কোনো প্রভাব নজরে আসার জন্য একজন গড়পরতা গেইমারকে দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিয়মিত গেইম খেলতে হবে। সেক্ষেত্রেও গেইমের পেছনে খরচ করা সময়ের চেয়ে, বাড়তি সময় দেওয়ার পেছনের কারণটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উভয় গবেষণাতেই অংশ নিয়েছিলেন অধ্যাপক অ্যান্ডু শিবিলস্কি।

বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “সাধারণভাবে ভাবলে, আপনার হাতে যদি ভিডিও গেইমের জন্য ফাঁকা সময় থাকে, আপনি সম্ভবত মানুষ হিসেবে বেশ সুখী।” “ভিডিও গেইমকে আমাদের জন্য ভালো বা খারাপ যাই ভাবি না কেন; আমরা গবেষণা থেকে উপসংহার টানার মতো প্রমাণ পেয়েছি যে আপনি কত বেশি খেলছেন তার সঙ্গে সুখী থাকার কোনো সম্পর্কই নেই।”

একজন গেইমার যদি বাধ্য না হয়ে বরং স্বেচ্ছায় গেইম খেলেন তবে এতে তার ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিবিসি জানিয়েছে, এবারের গবেষণার জন্য গেইমারদের অনুমতি নিয়ে ছয় সপ্তাহের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে সনি, মাইক্রোসফট এবং নিনটেন্ডোসহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গবেষণায় মোট ছয়টি গেইমের ডেটা ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। এর মধ্যে আছে, ‘অ্যানিমাল ক্রসিং: নিউ হরাইজন’, ‘অ্যাপেক্স লিজেন্ডেস’, ‘ইভ অনলাইন’, ‘ফোরজা হরাইজন ৪’, ‘গ্র্যান টুরিজমো স্পোর্ট’ এবং ‘দ্য ক্রু ২’।

শঙ্কা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে:
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গেইমিংয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি আরোপ করেছে সম্ভবত চীন। কেবল শুক্রবার, শনিবার এবং রোববারে দৈনিক এক ঘণ্টা করে ভিডিও গেইম খেলার অনুমতি আছে দেশটির শিশুদের। তবে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গেইমারদের অনেকের মতেই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব রাখে ভিডিও গেইম।

‘লেমিংস’ এবং ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো’র নির্মাতা মাইক ডেইলির মতে ক্ষেত্রবিশেষে গেইমিংয়ের ইতিবাচক প্রভাবেরও মধ্যেও পার্থক্য আছে। “ইতিবাচক দিকগুলো ঠিক ‘সুখী থাকার’ মতো নির্দিষ্ট একটি বিষয় দিয়ে পরিমাপ করা যায় কি না, আমি নিশ্চিত নই,”– বিবিসিকে বলেন তিনি। “জীবনের বাকি সবকিছুর মতোই এখানে ভারসাম্য রাখার বিষয় আছে। দিনের ২৪ ঘণ্টা গেইম খেলা যেমন ভালো নয়, তেমনি ২৪ ঘণ্টা না খেয়েও থাকাওতো ভালো কিছু নয়।”

টিবি##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *