Monday , August 8 2022
Home - জাতীয় - ট্রেন টিকিটে ডিজিটাল কারসাজি

ট্রেন টিকিটে ডিজিটাল কারসাজি

নিউজ ডেস্ক:

ট্রেনে ঈদ যাত্রা মানেই দুর্ভোগ। টিকিট কাটতেই কেটে যায় দিনের পর দিন। এর সাথে যোগ হয়েছে নতুন দুর্ভোগ ডিজিটাল কারসাজি। অসাধু কিছু লোক টিকিট কাটার সময় শুরু হলেই সার্ভার ডাউন করে রাখেন। অথবা টিকিট কেটে ফেলেন। এর ফলে প্রকৃত টিকিটপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত টিকিট থেকে। অনিশ্চিত টিকিট কাটার মিশন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় রেল স্টেশনের কাউন্টারের সামনে সাধারন যাত্রীদের। খেয়ে-না খেয়ে কাইন্টারের সামনে রাতদিন কাটালেও মিলছে না টিকিট।

টিকিটপ্রত্যাশীদের অভিযোগ রাতদিন কাউন্টারের সামনে বসে অপেক্ষা করলেও তারা পাচ্ছেন না গন্তব্যের টিকিট। কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ এবার অন্য বছরের তুলনায় দুর্ভোগ বেড়েছে। এবার কাউন্টারে গ্রাহকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে অনলাইনে ডিজিটাল কালোবাজারি করে টিকিট কেটে নিচ্ছে লোকজন। এখন অনলাইনের ডিজিটাল কালোবাজারিদের হাত থেকে ট্রেনের টিকিটিং সেস্টেমকে বাঁচানোর দাবি তাদের। ভোগান্তি শুধু কাউন্টারে নয় অনলাইনেও টিকিট কাটতে পারছেন না যাত্রীরা। গত শুক্রবার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনে সারাদিন রাত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে টিকিট পাননি।

তবে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা সীমিত। আমরা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ কমে আসবে। গত ঈদুল ফিতরের টিকিট নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। আমরা অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। এসব বলেই দায় সেরেছেন। ঈদুল ফিতরের অব্যবস্থাপনার কথা এবারের ঈদ যাত্রার সময় এসে তিনি বলেছেন। কিন্তু গত ঈদুল ফিতরের সময় এ কথা স্বীকার করেননি।

গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদযাত্রায় রেলের আগাম টিকিট পেতে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ভিড় করেছেন ঘরে ফেরা মানুষ। ট্রেনের টিকিট পেতে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে রাতভর অপেক্ষা করছেন হাজার হাজার লোক। অনেকে রাতের খাবার খেয়ে স্টেশনে আসেন। রাত যত গভীর হয় আস্তে আস্তে ভিড় বাড়তে থাকে। অনলাইনে ভরসা না পেয়ে কাউন্টারের সামনে রাত পোহায় তাদের। টিকিটপ্রত্যাশীদের এখানে শুধু লাইনে বসে কাউন্টারের টিকিটের ভরসা করেন না। বসে বসে অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করেন। তাতেও কোন লাভ হয়না তাদের। সব বয়সী টিকিটপ্রত্যাশীদের সাথে টিকিটের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয় নারীদের। তারা অনেকে শিশু বাচ্চাদের নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছেন। সাথে শিশুদের নিয়ে আসায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাউন্টারের সামনে অনেককে বসে ও ঘুমাতে দেখা যায়। অনেকে আবার বসে লুডো খেলে সময় কাটাচ্ছেন। তবে বিক্রি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের। চাহিদার তুলনায় অনলাইনে বরাদ্দ কম বলে দায় সারছে রেলওয়ে। এইসব দায় সারা কথার প্রতিবাদ করছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। তাদের দাবি রেলওয়ে প্রত্যেক বছরেই ঈদের সময় এমন কথা বলে। আর ভোগান্তি কমানোর জন্য এবার ৭টি স্থান থেকে বিক্রি হচ্ছে টিকিট। প্রতিদিন বিক্রি হবে প্রায় ২৯ হাজার। যার ৫০ শতাংশ কাউন্টার আর ৫০ শতাংশ অনলাইনে। এখন সবকিছুই যেন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

গতকাল শনিবার দেয়া হচ্ছে ৬ জুলাইয়ের টিকিট। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় সারা দেশে ৫৮ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর ৬টি স্টেশনের কাউন্টার, ওয়েবসাইট এবং রেলসেবা অ্যাপে সারা দেশে এ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও গত রাত থেকেই ৬ জুলাইয়ের টিকিট পেতে স্টেশনে বাড়তে থাকে ভিড়। অনলাইনে ভরসা না পেয়ে কাউন্টারের সামনে রাত পেরিয়ে সকাল হয়েছে বহু টিকিটপ্রত্যাশীর। তবুও কাক্সিক্ষত টিকিটের নাগাল পাচ্ছেন না প্রত্যাশীরা।

নীলফামারীগামী টিকিটপ্রত্যাশী রশিদুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, প্রথম দিন থেকে বসে আছি। রাতদিন এক বরছি কোন টিকিট পাইনি। আজকে আমারা এই কমলাপুর স্টেশনে বসে থাকতে থাকতে তিনদিন হয়ে যাচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করলেও টিকিট পাচ্ছিনা। আমি যদি টিকিটের জন্য স্টেশনে বসে না থাকতাম তাহলে এই তিনদিনে অনেক টাকা আয় করতে পারতাম। এখন আমার তিনদিনের মজুরি কে দিবে। টিকিটও পেলাম না, টাকা রোজগারও করতে পারলাম না।
এক নারী টিকিটপ্রত্যাশী বলেন, আমাদের জন্য যে কাউন্টার দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। অনেকে বাচ্চা নিয়ে কষ্ট করছেন। অনলাইনে অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পাইনি। তাই লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি। নরীদের জন্য টিকিট কাউন্টার বাড়ানো হলে হয়তো কিছু মানুষ টিকিট পেত।

গতকাল শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ইসলামী ব্যাংকের দেয়া ট্রলি গ্রহণ অনুষ্ঠানে ঈদে টিকিট নিয়ে ডিজটাল কারসাজি ও দুর্ভোগের বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ৬ হাজার টিকিটের জন্য প্রায় ২ লাখ লোক স্টেশনে এসেছে। টিকিটের যে চাহিদা তা পূরণে আমাদের সক্ষমতা নেই। সকালে অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য ১০-১৫ লাখ হিট পড়ে। আবার টিকিট কম থাকায় সবাই টিকিটও পায় না। যদি কেউ ডিজিটাল কালোবাজারি করে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবার জয়দেবপুর থেকে স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে ঈদযাত্রার টিকিট দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকায় ছয়টি আগাম টিকিট কেন্দ্রে কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তারপরও প্রচণ্ড ভিড়। অনেকে অভিযোগ করছেন টিকিট পাচ্ছেন না। ঈদে ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব স্বাভাবিক বিষয়। পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।