Wednesday , September 1 2021
Home - ভিন্ন খবর - শিপ্রা সবকিছুই বলবেন…

শিপ্রা সবকিছুই বলবেন…

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে শিপ্রা দেবনাথ কাঁদতে চান না। তিনি বলেছেন, সিনহাকে অন্যায়ভাবে খুন করা হয়েছে। আর সেই অন্যায়কে জায়েজ করতে সাজানো হয়েছে একের পর এক ঘটনা। রাষ্ট্র এই অন্যায়ের কী প্রতিকার করে, তা-ই দেখতে চান তিনি।

গত বছরের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা তিন তরুণকে নিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে গিয়েছিলেন কক্সবাজারে। ভ্রমণবিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেলের কাজে তাঁদের এই ভ্রমণ। এই দলেরই অন্যতম সদস্য শিপ্রা দেবনাথ। সিনহা হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর ঢাকার এক রেস্তোরাঁয় বসে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে।

সিনহা হত্যাকাণ্ড এখন বিচারাধীন। সে কারণে মামলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন বিবরণ সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। শিপ্রা বলেছেন, ‘আমি আসলে কেঁদে কেঁদে বিচার চাইব না। একটা স্বাধীন দেশে সিনহা মো. রাশেদকে মেরে ফেলা হয়েছে। সেই ভুলের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে একটার পর একটা ঘটনা ঘটানো হলো। কিন্তু কেন?’ তিনি জানান, তাঁকে অনেকে দেশ ছাড়তে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। পালাতে চান না শিপ্রা, মুখোমুখি হতে চান বিচারপ্রক্রিয়ার। তিনি সব জানেন, সব বলবেন। এক দশক বা দুই দশক পর যখনই সুযোগ পাবেন।

সিনহার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রপাত কীভাবে? শিপ্রা দেবনাথ বলে যান। তাঁদের পরিচয় হত্যাকাণ্ডের বছর খানেক আগে। এক ভ্রমণে গিয়ে। সিনহার হাতে জনাথন সুইফটের বই দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন শিপ্রা। গল্প-কবিতা-দর্শন আর ভ্রমণ নিয়ে বিস্তর কথা হয় তাঁদের। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শিপ্রার মাধ্যমেই পরে সিনহার সঙ্গে পরিচয় হয় সিফাত ও রুফতির। তাঁরাও স্ট্যামফোর্ডের ছাত্র ছিলেন। কথায় কথায় শিপ্রা তাঁর স্বপ্নের কথা বলেছিলেন সিনহাকে। তিনি বিশ্বভ্রমণ করতে চান আর সেই ভ্রমণ নিয়েই বানাতে চান তথ্যচিত্র। মনে আশা, এত ভালো হবে সেই তথ্যচিত্র যে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি থেকে ডাক পাবেন। শিপ্রার এই বিশ্বভ্রমণের স্বপ্নের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল সিনহা মো. রাশেদের স্বপ্নও। কোভিডের কারণে দেশের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা তখন। তাই সিদ্ধান্ত হয় দেশ থেকেই কাজটা শুরু করবেন।

উকুউকু প্রডাকশনের নামে কাজে নামেন সিনহারা। তিনি নিজে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ফিল্মটা বানাতে যা যা প্রয়োজন, তার জোগানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। শিপ্রা ছিলেন প্রডাকশন ডিরেক্টর, সিফাত সিনেমাটোগ্রাফার এবং রুফতি এডিটর। প্রতিষ্ঠানের আইটি দেখার জন্য আরও একজন ছিলেন। তিনি কখনো সামনে আসতে চাননি। গত বছর জুলাইয়ের মাঝামাঝি তাঁরা ঢাকা ছাড়েন। ১০ থেকে ১১ দিন কক্সবাজার ও টেকনাফের বিভিন্ন জায়গায় ভিডিও ধারণের কাজ করেছিলেন।

সিনহা যেদিন খুন হন, সেদিনও সিফাতকে নিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন সিনহা। শিপ্রা ও রুফতি থেকে গিয়েছিলেন রামুর মোটেলে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শিপ্রাকে ফোন করে সিনহা জানান, ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে কাজ সেরে ফিরে আসবেন। ওই শেষ।