বাড়িতে সাত করোনা রোগী, আতঙ্কে কাটছে তিন্নির দিন

জীবনের গল্প

‘এইম ইন লাইফ’ নাটকের তিন্নির কথা মনে আছে? তিনি এখন কানাডায়। মন্ট্রিয়েলের লাসাল শহরে মেয়ে ওয়ারিশাকে নিয়ে থাকেন। দেড় মাস ঘরে আটকে আছেন। যে বাড়িটায় থাকছেন, সেখানে সাতজন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আতঙ্কে কাটছে তাঁর দিন-রাত।

বাড়িটায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে জানার পর ভেবেছিলেন, সেখান থেকে চলে যাবেন। পরে মনে হলো দরকার নেই। বাসায় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার ছিল না। সেখান থেকে একটু দূরে বন্ধু মনিকার বাড়ি। সে এসেই এসব দিয়ে গেলেন। আপাতত নিরাপদ তিন্নি। আত্মীয়স্বজনদের কী অবস্থা? তিন্নি বলেন, ‘আমার তিন ফুপু আছেন কানাডায়। বাবা–মা বাংলাদেশে। প্রতিদিনই ফোনে কথা হয়। কিন্তু বাবা-মার জন্য চিন্তা হচ্ছে। দাদাবাড়ি নেত্রকোনার কাজিনরা, ঢাকায় বাবা-মা, কানাডার ফুপুরা মিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা চ্যাটগ্রুপ খুলেছি। সেখানে সবাই একসঙ্গে যোগযোগ করছি।’

এ তো গেল পরিবারের মানুষদের কথা। অভিনয় জগতের স্বজনদের খবর রেখেছেন তিনি বা তাঁর খবর নিয়েছিল কেউ? ২০০৪ সাল থেকে কম নাটক করেননি তিনি। ২০০৭ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমায় তিনি ছিলেন। ২০১২ সালে অভিনয় করেছিলেন শাকিব খানের বিপরীতে ‘সে আমার মন কেড়েছে’ চলচ্চিত্রে। বেশ কিছু ধারাবাহিক ও খণ্ডনাটকে তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তরুণদের কাছে তাঁকে করে তুলেছিল প্রিয় মুখ। তিন্নি জানালেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে টনি ডায়েস, শ্রাবন্তী, তমালিকা, রিচি সোলায়মানসহ অনেকই খোঁজ নিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা থেকে পার্থ দা, চঞ্চল চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন। আর মেয়ে ওয়ারিশার বাবা অভিনেতা হিল্লোল? তিন্নি বলেন, ‘সে যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। দাদা-দাদি, চাচারা সবাই ওয়ারিশার খোঁজখবর নেন।’

হিল্লোলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আবার বিয়ে করেছিলেন তিন্নি। সেই সংসারে তাঁদের একটি মেয়ে আছে। নাম আরিশা, বয়স পাঁচ বছর। সেই সংসারটিও টেকেনি নানা কারণে। আরিশা ঢাকায় বাবার কাছে থাকে। মেয়ে ও তাঁর বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা হয় তিন্নির। তাঁরা কানাডাতে যেতেও চেয়েছে। আসতে পারলে আরিশাকে স্কুলে ভর্তি করানো হবে। তিন্নির এখন সাধ, মেয়ে দুটি বড় হোক, মানুষ হোক।

২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে কানাডায় গেছেন তিন্নি। প্রায় পাঁচ বছর হলো। ওয়ারিশার বয়স এখন ১১ বছর। সেখানকার একটি স্কুলের ক্লাস ফোরে পড়ে সে। তাঁকে দেখাশোনার পাশাপাশি একটি কল সেন্টারে চাকরি নিয়েছিলেন তিন্নি। সেই চাকরির অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দুমাস পর সেটি ছেড়ে একটি কসমেটিকস স্টোরে যোগ দিয়েছিলাম। সেটাও ছেড়ে দিয়েছি। আমাকে দিয়ে চাকরি হবে না।’

দেশে ফিরতে খুব ইচ্ছে করে তিন্নির। খুব করে টানে ক্যামেরা। আবার অভিনয় করতে ইচ্ছে করে। নিজের অভিনয়-দক্ষতার ওপর তাঁর বিশ্বাস অবিচল। তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট হতে আর বছর দেড়েক লাগবে। এরপর হয়তো দেশে ফিরব। দেশে ফিরতে খুব ইচ্ছা করে। ফিরে আবার অভিনয় করব। নিজের কাজের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। সেই বিশ্বাস দিয়ে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা আছে। তা ছাড়া এখানে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিষয়ে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

কলকাতাকেন্দ্রিক সিনেমায় কাজের ইচ্ছে তিন্নির। যেহেতু কানাডায় থাকবেন, তাই আন্তর্জাতিক কিছু কাজও করতে চান তিনি। এ জন্য ফরাসি ভাষাও শিখছেন। ইচ্ছে আছে নতুন করে সংসার শুরু করার। তবে জীবনের সবচেয়ে জরুরি ভাবনা এখন দুই মেয়েকে নিয়ে। এরপর পছন্দের মানুষটির সঙ্গে বিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *